বিকল্প আয়ের উৎস বাড়ির ছাদে বাগান

0
213

বিকল্প আয়ের উৎস বাড়ির ছাদে বাগান

ষড় ঋতুর এই দেশে যেখানে আজো শতভাগ জমি চাষাবাদের আওতায় আসে নাই সেখানে বাড়ির ছাদের কথা তো ভাবাই যায় না। এরকম পারিস্থিতিতে নগর শহর বন্দরের কোটি কোটি বাড়ীর দালানের ছাদ নিয়ে চলছে বাগান তৈরীর পারিকল্পনা। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছে ছাদের বাগান। চিহ্নিত হয়েছে অর্থনৈতিক খাত হিসাবে। শ্রমের বাগানে ফিরে এসেছে স্বস্তি। যে যেভাবে পারছে গড়ে তুলছে ফলের, ফুলের ও শাকসবজির বাগান। পারিবারিক ফল ও ফুল শাক-সবজির চাহিদা মিটিয়ে বিক্রয় হচ্ছে বাজারে। ছাদের খোলা জায়গা হয়েছে সৌন্দর্য মন্ডিত। অবসর প্রাপ্তদের কাটছে অবসাধ, অলসভরা সময়ের হচ্ছে সদ্ব্যবহার।

বড় বড় শহর গুলিতে ফসলের বাগান করার জন্য নাই যথেষ্ট সুযোগ এছাড়া রয়েছে জমির অভাব। পারিবারিক মেলা বন্ধনে সময় কাটানোর পরিবেশ অনুপস্থিত। তাই বাড়ির মালিকেরা দিনে দিনে ছাদে বাগান করার দিকে ঝুঁকছে। ছাদের বাগান প্রতিটি পরিবারে চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে এনে দিতে পারে স্বচ্ছলতা এছাড়া পরিকল্পিত উদ্দ্যোগের মাধ্যমে বাজারে ভেজাল ও ফরমালিন যুক্ত ফলমূল ও শাকসবজির ক্ষতি কারকতা থেকে পেতে পারে মুক্তি।

ছাদে বাগান তৈরীর ক্ষেত্রে প্রথমত লক্ষ্য রাখতে হবে জল ছাদ আছে কিনা। জল ছাদ না থাকলে বিকল্প হিসাবে আলকাতরার প্রলেপ দিতে হবে। আলকাতরার প্রলেপ দেওয়া সম্ভব না হলে মোটা পলিথিন পেপার বিছিয়ে তার উপর অন্তঃত ২/২.৫ ফুট মাটি উচ্চতা করতে হবে। ছাদের চারিপার্শ্বে অথবা অংশবিশেষ কাঠের অথবা ষ্টীলের সীট দিয়ে ফ্রেম করে আটকিয়ে দিতে হবে।

ছাদে চলাচল, পানি দেওয়া ও সার ঔষধ প্রয়োগের জন্য পথ রাখতে হবে। আবার সুবিধামত ছাদে বেড বেড তৈরী করেও নেওয়া যায়। ছাদে গাছ লাগানোর প্রধান উপাদান মাটি। তাই ছাদে মাটির গুরুত্ব যত বেশি হবে তত ভাল। গাছের রোগ বালাই থেকে রক্ষা ও ভাল ফলনের জন্য ৩/৪ বছর অন্তর অন্তর মাটি পরিবর্তন এবং নতুন ভাবে বেড তৈরী করতে হবে।

মাটির ধরন অনুযায়ী ছাদে যে কোন গাছ লাগনো যায়। সাধারণত দোঁ-আশ ও বেলে দোঁ-আশ মাটি ছাদে গাছ লাগনোর উপযোগী। পরিকল্পনা মোতাবেক কোন জাতের গাছের জন্য কোন ধরনের মাটি উপযোগী তা নিশ্চিত হয়ে ছাদে মাটি উঠলে ভাল হয়। ছাদে ব্যবহার যোগ্য পাত্রের মধ্যে টব, বালতি, কনটেইনার বা ড্রাম উল্লেখযোগ্য।

এই সকল পাত্রে মাটি ব্যবহারের পূর্বে পাত্রের তলায় কিছু পরিমান ইটের বা পাথরের খোয়া দিতে হয়। যাতে পাত্রের নীচের ছিদ্র দিয়ে অতিরিক্ত পানি নিস্কাশিত হয় এবং পাত্রের নীচে ভিতরে আলো বাতাস প্রবেশে বিঘন্ন না ঘটে। আমাদের দেশে উপযুক্ত জলবায়ুর কারণে গাছের শিকড় গভীরে যাওয়া প্রবণতা বেশী থাকে। টব বা ড্রামের আকার যত বড় হবে গাছের জন্য তত উযোগী হবে। বাগানের মাটির পরিমানের অর্ধেক পচা গোবর বা জৈব সারের সংমিশ্রনে মাটি প্রস্তুত করতে হবে। উল্লেখ যে, ফল চাষের জন্য বড় টব ড্রাম অপরদিকে শাক সবজি বা ফুল চাষের জন্য টবের আকার ছোট হলেই চলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here