ভাসমান চাষ বা ধাপের উপর ফসলের চাষ পদ্ধতি

0
335
ভাসমান চাষ বা ধাপের উপর ফসলের চাষ পদ্ধতি

ভাসমান চাষ বা ধাপের উপর ফসলের চাষ পদ্ধতি

আমাদের দেশে বিলাঞ্চলে বা জলাভুমি এলাকার সাাধারণ বাসিন্দাদের স্ব উদ্ভাবনীয় ফসলের চাষ পদ্ধতি দেশের গন্ডী ছাড়িয়ে নজর কেড়েছে সারাবিশ্বের। স্বাধিনতা পূর্ববতী সময় থেকে এই চাষ পদ্ধতির প্রচলণ ঘটে। স্থানীয়দের মতে পানিতে ভাসমান এই চাষ পদ্ধতি আস্তে আস্তে ধাপ চাষ নামে পরিচিতি লাভ করে। আমাদের দেশের বিলাঞ্চলের জলমগ্ন ভূমির কৃষকের। প্রধানত এই চাষ পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল। জলাবদ্ধ এই সকল উল্লেখযোগ্য এলাকার মধ্যে উজিরপুর, নাজিরপুর, স্বরুপকাজী, বানারী পাড়া, চুঙ্গিপাড়;া, কোটালীপাড়া ও মুকসুদপুর উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের জলাবদ্ধভুমি, নদী, খাল, বিল ইত্যাদি সহ আরো অনেক এলাকা।

বাংলা আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত জলাবদ্ধ এলাকা সমূহের জলাভূমিতে ব্যতিক্রমী চাষাবাদের দৃশ্য চোখে পরে। বর্ষার শুরু থেকে ভাসমান ধাপের উপর শাক-শবজি চারা উৎপাদন ও বিক্রয়ের সময়। পানি বাড়ার সাথে সাথে কচুরিপনা, শ্যাওলা, টেপাপানা, গুড়ি পোনা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ টেলে উপরে থরে থরে সাজিয়ে তৈরী করা হয় ভাসমান লম্বা ধাপ বা বীজ তলা। ভাসমান ধাপ গুলি পানিতে ভাসতে থাকে ও আস্তে আস্তে পঁচে গিয়ে জৈব সারে পরিনত হয়্। ধাপ গুলি সুবিধামতো লম্বা ও প্রশস্ত করা হয়। ১/১.৫ ফুট পুরু ধাপে কখানো কখনো খড় কুটা ও নারিকেলের ছোবড়া ব্যবহার করতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও ধাপ  ১০০/১৫০ ফুট লম্বা ও ৫/৬ ফুট প্রশস্ত করা হয়।

পুরুষেরা ধাপ তৈরী শেষে সুবিধাজনক স্থানে রাখার পর ধাপের উপর চারা স্থাপন ও পরিচর্যাার কাজে নিয়োজিত হন। উল্লেখ্য যে, পুরুষেরা বাহিরে ধাপের কাজে জড়িত হওয়ার সাথে সাথে পরিবারের মহিলারা ও অন্য সদস্যরা বাড়ীতে বসে বীজের অংকুরোদগম ঘাটানোর কাজ করেন। অংকুরোদগমের ক্ষেত্রে মহিলারা কচুরিপানার শিকড়, শ্যাওলা ও নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে ছোট ছোট গোল্লা বা বল তৈরী করে বলের মধ্যে ১/২টি করে বীজ দিয়ে অংকুরোগমন ঘটায়। অংকুরোদগম হলে পুরুষেরা বলগুলি নিয়ে ভাসমান বীজ তলা বা ধাপের উপর পাশাপাশি সারিবদ্ধ ভাবে স্থাপন করেন। নিদৃষ্ট সময় পর্যন্ত পরিচর্যার মাধ্যমে বিক্রয়  যোগ্য চারায় পরিনত হয়। আবার কিছু কিছু বীজের অংকুরোদগম সরাসরি ধাপে ঘটানো হয়। সরাসরি ধাপে অংকুরোদগম ঘটনো বীজের মধ্যে লাউ, সীম, করলা, পেপে, বরবটি, শশা, পুইশাক, মরিচ, কুমড়া, পেপে, টমেটো, ইত্যাদি। বর্তমানে ধাপের উপর সরাসরি লালশাক, ঢেঁড়শ, শশাও হলুদ ফলানো হয়।

চারার পরিনত বয়স ও বিক্রয় উপযোগী হলে বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারেরা এসে শবজির চারা ক্রয় করে নিয়ে যায়। পাইকারেরা নৌকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে আবাদকারী কৃষকের কাছে বিক্রয় করে। প্রতি মৌসুমে অর্থাৎ আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত জ্জ বার চারা উৎপাদন ও বিক্রয় করা হয়।

ধাপ চাষে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতি না হলে আশানুরুপ সাফল্য অর্জিত হয়। ১০০/১৫০ ফুট একটি ধাপে গড়ে এক মৌসুমে অর্থাৎ পাঁচ মাসে সম্ভাব্য খরচের পরিমান ৭/৮ হাজার টাকা। দুর্যোগ না হলে প্রতি মৌসুমে প্রায় ১৯/২০ হাজার টাকার চারা বিক্রয় হয়। মৌসুম শেষ হলে ধাপের জৈব সার অন্যান্য সবজি চাষে ব্যবহার হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here