শুটঁকী উৎপাদন ও রফতানি

0
199

শুটঁকী উৎপাদন ও রফতানি করে আপনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গর্বিত অংশীদার হউন

বাংলাদেশের নদী-সাগর উপকুলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার অন্যতম অবলম্বন হচ্ছে সমুদ্র। মৎস্যজীবিরা জীবন বাজী রেখে জীবিকার তাগিদে নদী সমূদ্রে মৎস্য আহরনে নিজেদের নিয়োজিত রাখে। মৌসুম ভিত্তিক অর্থাৎ  অক্টোবর প্রথম থেকে মার্চ পর্যন্ত জেলেদের সাগরে মাছ আহরণ ও শুটকি প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়। নদী সাগর পারের এই মানুষ গুলোর কর্মসংস্থান কেবল মাত্র নদী সমুদ্র কেন্দ্রীক। জেলেরা নিজেদের থাকা, মাছ ধরার সরঞ্জাম রাখা ও শুটকী তৈরীর জন্য স্থায়ী ডিপো ঘর ও মাচা তৈরী করে উপকুল থেকে দূর সমুদ্রে যাত্রা করে মৎস্য আহরণে। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত চালু থাকে শুটকি তৈরীর মৌসুম। সাগর ও নদীর চর গুলোতে শুটকী মহল তৈরী করে শুটকী শুকানো হয়। এছাড়া চর এলাকার আশে পাশে চরে রৌদে শুকিয়ে শুটকী করা হয়। শীতের মৌসুম মৎস্য শুকানোর উপযুক্ত সময়।

জেলেরা বিভিন্ন প্রকার জাল দিয়ে মাছ ধরে ও বাছাই করে শুটকি তৈরী করে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাছ ধরা বাছাই করা, মাছ গ্রেডিং করা ও প্রক্রিয়া করণে ব্যস্ত সময় পার করে শুটকির সাথে সংশ্লিষ্ট জেলে ও ব্যবসায়ীরা যে কোন ধরনের শুটকি উৎপাদন রফতানি আয় কয়েকগুন বেড়ে যায়। বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে শুটকি বিদেশে রফতানি হয়। সাগর থেকে আহরিত সামুদ্রিক মাছ শুকানোর জন্য রৌদ্রে মাচায়ও দড়িতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

লইট্যা, ছুরি,  রুপচান্দা, মাইট্যা, কোরাল, বইস্যা, পোঁয়া, ও চিংড়ি শুটকি অন্যতম। ইউরিয়া সার, লবণ ও বিষাক্ত পাউডার ব্যবহারে উৎপাদিত শুটকি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই জাতীয় শুটকিতে স্বাদ থাকে না। কেমিক্যাল ব্যবহার না করা শুটকির স্বাদ ও চাহিদা আলাদ। আবার এলাকা ভিত্তিক শুটকির আলাদা শুনাম থাকায় কদর ও মূল্য দু’টিই বেশী হয়। আমাদের দেশের চাহিদা মিটিয়ে শুটকি রফতানি হচ্ছে কাতার, দুবাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ওমান ও পাকিস্তান সহ মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

কিছু কিছু জেলেরা সরকারী বেসরকারী সাহায্য সহায়তা ছাড়া নিজস্ব উদ্দোগ্যে এবং জীবন বাচাঁনোর তাগিদে মাছ শুকিয়ে শুটকি উৎপাদন করে থাকে। কখনো কখনো জেলেরা দুর্যোগের কারণে মাছ ধরতে পারেনা। আবার বন্যার কারনে মাছের পুকুর জলাশয় ডুবে যাওয়ার কারণে নদীতে দেশী মাছ বেড়ে যায়। এবং ব্যবসায়ীরা দেশী মাছ বিশেষ করে পুটি, চান্দা, টাকি, বোয়াল শুটকি করতে ব্যস্ত হয়ে পরে। কাঁচা মাছের আমাদনি কমও বাজার মূল্য বেশী হলে শুটকির পরিমান কম হয়। আবার মাছের আমদানি বেশী, মূল্য কম হলে শুটকি বেশী হয়। সাধারণত তিন মণ মাছ শুকালে এক মণ শুটকি হয়।

নানা সংশয় ও প্রতিকুলতার মধ্যে নদী সমুদ্রে মৎস্য আহরণ কারী জেলে ও ব্যবসায়ীদের পরিবহন সমস্যায় পড়তে হয়। নদী সমুদ্র উপকুল থেকে গ্রামের সড়ক যোগাযোগ ভাল না থাকাই পরিবহন সমস্যার কারণ।

শুটকি উৎপাদনকারী জেলেদের ব্যাংক ঋণ সুবিধা ও পৃষ্ট পোষকতা না থাকায় অর্থের জন্য গুদাম মালিকদের কাছে ধর্না দিতে হয়। অগ্রিম টাকা দাদন নেওয়ার ফলে শুটকি শুকিয়ে কম মূল্যে গুদাম মালিকদের কাছে দিতে হচ্ছে গুদাম মালিকেরা এই সুযোগ হাজার হাজার মন শুটকি গুদামজাত করে বর্ষা মৌসুমে উচ্চ দামে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে লাভজনক হয়।

দুর্যোগ পূর্ন আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত ও কুয়াশার কারণে সাগর থেকে আহরিত মাছ শুকানোর ব্যবস্থা না থাকায়  প্রতিবছর সাগর উপকুলে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় শুটকি পল্লী আধুনিকায়ন হলে উৎপাদন ও রফতানি অনেকগুন বেড়ে যাবে। ফলে এই শিল্পের মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here